Hiranyagarbhaofficial

হনুমান-অজানা কথা

হনুমান-অজানা কথা

তথ্য সংগ্রাহক: সোমনাথ সরকার

গোটা পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সমাধানের উপায় হিসেবে ভগবান হনুমানকে আঁকড়ে ধরতে চায় মানুষ। যে কয়েকজন চিরঞ্জীবী রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ভগবান হনুমান। শ্রী রামের দাস তিনি। তার অকৃত্রিম দাসভক্তি আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী। আবার তিনি ভক্তের বড় শক্তি। এ ভুবনে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতিষ। হনুমান সঙ্গীতেও অত্যন্ত পারদর্শী। আর সেই ভগবান হনুমানকে নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু আপনাদের জন্য। ভগবান হনুমানের জন্ম রহস্য কি? কোথায় তার জন্ম হয়েছিল? কোন কোন বিদ্যায় তিনি পারদর্শী? সবকিছু নিয়েই এই তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু। এক তথ্যে বলা হচ্ছে রাম এবং সীতা যখন বানর রূপ ধারণ করেছিলেন তখন যে পুত্র সন্তান তাদের হয়েছিল তিনি হলেন হনুমান। পার্বতী এবং শিব বানর রূপ ধারণ করেছিলেন। এবং সেই সময় তাদের যে পুত্র সন্তান হয় তিনি হলেন হনুমান।

হরিবংশ ও ব্রহ্মপুরাণ অনুসারে চন্দ্র বংশের সপ্তম রাজা ছিলেন পুরু। এর এনার ৩৫ তম উত্তর পুরুষ হলেন বধ্যশ্ব। তিনি অপ্সরা মেনোকা কে বিবাহ করেছিলেন। ‌ এদের যমজ সন্তান হয়। যার মধ্যে একজন দিবদাস দ্বিতীয় এবং অপরজন রামায়ণের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অহল্যা। ‌ দিবদাসের সন্তান ছিলেন মিত্রায়ু। অন্যদিকে অহল্যার সঙ্গে গৌতমের বিবাহ হয়। ‌ তাদের যে সন্তান হয় অঞ্জনা, এই অঞ্জনার সঙ্গেই ভগবান হনুমানের জন্ম রহস্য জড়িত। বামন পুরান অনুসারে অহল্যা এবং গৌতমের অঞ্জনা ছাড়াও আলো চার কন্যা সন্তান ছিল। জয়া, বিজয়া, অপরাজিতা ও জয়তী।

এছাড়া সতানন্দ ও চিরকারী নামক দুই পুত্র সন্তান ছিল। ‌ দেবরাজ ইন্দ্র বিভিন্ন অপ্সরাদের কাজে লাগিয়ে মুনি ঋষিদের প্রলোভন দেখাতেন। তার মধ্যে অন্যতম হবেন পুঞ্জিকাস্থলা। বেশি দুর্বাসার অভিশাপে পুঞ্জিকাস্থলা মানবী জন্ম পেয়েছিলেন। তুমি যখন কাউকে ভালোবাসবেন তখন তিনি বানরীর মতো হয়ে যাবেন। এমন অবস্থায় প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন পুঞ্জিকাস্থলা। এবং আশীর্বাদ লাভ করেন। ‌ স্বর্গের পুঞ্জিকাস্থলাই হলেন গৌতম এবং অহল্যার কন্যা অঞ্জনা। বানররাজ কেশরীর সঙ্গে অঞ্জনার বিবাহ হয়। ‌ কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হচ্ছিল না।

অঞ্জনা ছিলেন উপাসক। উপাসনা করার পর ভগবান শিব প্রকট হলেন এবং কথা দিলেন অংশ রূপে অঞ্জনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের প্রথম সন্তান শান্তার সঙ্গে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির বিবাহ হয়। জামাতা মুনির সহায়তা পুত্রকামেষ্ঠী যজ্ঞের আয়োজন হয়। যজ্ঞের থেকে যজ্ঞ পুরুষ আবিভূত হয়ে বিশেষ পায়েস বা চারু দশরথের তিন রানি কৈকেয়ী, কৌশল্যা এবং সুমিত্রাকে প্রদান করেন। এই সময় একটি চিল কৈকেয়ীর পায়েস ভর্তি বাটি থেকে অনেকটা পায়েস ছোঁ মেরে নিয়ে উড়ে যায়।

অঞ্জনা যে জায়গায় শিবের উপাসনা করছিলেন চিল টি ঠিক সেই জায়গায় এসে পায়েস বা চরু তার হাতে ফেলে। সেই বিশেষ পায়েস খেয়ে যে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় অঞ্জনা তিনিই হলেন ভগবান হনুমান। হনুমানের গুরু হলেন সূর্য। হনুমানকে বিভিন্ন দেবতা বিভিন্ন বর দিয়েছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র শিশুর নামকরণ করেছিলেন হনুমান। বাম চোয়াল ভাঙ্গা বলে এমন নাম হয়েছিল। এক তথ্যে পাওয়া যাচ্ছে ভগবান হনুমান বিবাহিত। ভগবান হনুমান শিবের রুদ্র অবতার হিসাবে এই কলি যুগে বিরাজমান। ভগবান হনুমানের অষ্টসিদ্ধি রয়েছে। বলা হয় শ্রীলংকার এক জনজাতির কাছে ৪১ বছর অন্তর ভগবান হনুমান আসেন।

ভগবান শ্রী হনুমানকে নিয়ে আলো তথ্য জানতে ইউটিউব চ্যানেল হিরণ্যগর্ভ অফিশিয়ালের লিঙ্ক ক্লিক করুন।